জানুন, পেট্রোল ডিজেল ও অক্টেনের পার্থক্য কি

জানুন, পেট্রোল ডিজেল ও অক্টেনের পার্থক্য কি

আপনি কি জানতে চান পেট্রোল ডিজেল অকটেন এগুলো কেন ভিন্ন ভিন্ন এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কি। কেন ডিজেল দিয়ে মোটরসাইকেল চলে না, আবার ডিজেল ইঞ্জিন গুলোতে কেন পেট্রোল ব্যবহার করা যায় না। বিস্তারিত জানতে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

আমরা যখনই পেট্রোল পাম্পে যাই, তখনই তিনটি সাধারণ নাম দেখতে পাই পেট্রোল, অকটেন এবং ডিজেল। অনেকে মনে করেন এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস, আবার অনেকে মনে করেন সব তো তেলই! কিন্তু আসলে এদের মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য। আপনার বাইক বা গাড়ি বেশিদিন টিকাতে এই পার্থক্যগুলো জানা খুব জরুরি।

আরও পড়ুনঃ- জুলাই সনদে কি কি বিষয় আছে, জানুন

পেট্রোল ডিজেল ও অক্টেনের।

আসলে পেট্রোল এবং অকটেন একই খনিজ থেকে তৈরি হয় যা কিছু কিছু দেশে মাটির নিচে পাওয়া যাই। অনেকের ধারণা হয়তো সরাসরি মাটির নিচ থেকেই অকটেন,পেট্রোল, ডিজেল আসে। আসলে আপনার ধারণা ভুল, মাটির নিচ থেকে একধরনের কালো রংয়ের খনিজ পদার্থ উঠে, যা থেকে রিফাইন বা শোধন করে অকটেন,পেট্রোল, ডিজেল পাওয়া যাই।

অকটেন সম্পর্কেঃ

অকটেন হলো অধিক পরিশোধিত ও উচ্চমানের তেল, যা বর্তমান নতুন নতুন ইঞ্জিন গুলোর জন্য বেশ উপযোগী। যেমন মোটরসাইকেল, মাইক্রো, সিএনজি, ইত্যাদি।অকটেনের প্রধান সুবিধা হলো: এটি বেশি বিশুদ্ধ ও ইঞ্জিনের ভেতরে কার্বন কম জমে, যা ইঞ্জিন বেশি দিন লাস্টিং করাতে সাহায্য করে।

পেট্রোল সম্পর্কেঃ

সাধারণ পেট্রোল ব্যবহার করা হয় পুরনো মডেলের কিছু কিছু ইঞ্জিনে। এটি অক্টেনের থেকে কম পরিশোধিত। পেট্রোল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের ভিতর অনেক কার্বন পরে, ও ইঞ্জিনে অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে।

আরও পড়ুনঃ- সোনালী ব্যাংক সকল শাখার মোবাইল নাম্বার: এখানে

২. ডিজেল: সম্পর্কে জানুন।

ডিজেল হলো পেট্রোল বা অকটেনের চেয়ে অনেক বেশি ঘন।

ডিজেল সাধারণত বাস, ট্রাক, ট্রেন বা জেনারেটরের কিছু ইঞ্জিনে ব্যবহার করা হয়। এর প্রধান কারণ হলো ডিজেল ইঞ্জিন প্রচুর শক্তি তৈরি করতে পারে, যা বড় বড় যানবাহন ও ভারী মালামাল বা বোঝা টানার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। পেট্রোল বা অকটেন থেকে এত শক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। অসুবিধা কালো ধোঁয়া তৈরি করে

একনজরে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন পার্থক্যঃ

বৈশিষ্ট্য পেট্রোল ও অকটেন ডিজেল
ব্যবহার বাইক, কার বা হালকা যানবাহন। বাস, ট্রাক বা ভারী যানবাহন।
কাজের ধরন স্পার্ক প্লাগ দিয়ে জ্বলে। বায়ুচাপের মাধ্যমে জ্বলে।
মাইলেজ তুলনামূলক কম। তুলনামূলক বেশি।
বিশুদ্ধতা সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধ। এটি ঘন ও ধোঁয়া বেশি।

আপনার জন্য কোনটি সঠিক?

১. আপনার যদি সাধারণ বাইক বা পুরনো গাড়ি থাকে, তবে পেট্রোল ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাঝেমধ্যে অকটেন মেশালে ইঞ্জিনের ভেতরের কার্বন পরিষ্কার হয়।

২. আপনার যদি নতুন মডেলের দামী বাইক বা কার থাকে, তবে সবসময় অকটেন ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়বে।

৩. আর যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় ভারী মালামাল পরিবহন বা বড় কোনো গাড়ি চালানো, তবে ডিজেল ইঞ্জিনই আপনার একমাত্র ভরসা।

আরও পড়ুনঃ- ঝাপসা ছবি ক্লিয়ার করার ওয়েবসাইট লিংক – ছবি ক্লিয়ার হবে ১ ক্লিকে

উপসংহার:

বিভিন্ন ইঞ্জিনের জন্য বিভিন্ন রকমের তেল রয়েছে। যদি আপনি পেট্রোল বা অকটেন চালিত ইঞ্জিনের ডিজেল ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও ইঞ্জিনটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আবার একই ভাবে যদি আপনি ডিজেল ইঞ্জিনে পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহার করেন। তাহলেও সেই ইঞ্জিনটি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তাই আমাদের সঠিক তেল সঠিক ইঞ্জিনে ব্যবহার করা প্রয়োজন। আরো যদি কিছু জানতে চান অবশ্যই কমেন্ট করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top