আপনি কি এমন বাটন ফোন কিনতে চান যেই বাটন ফোনে টাচ ডিসপ্লে থাকবে এবং ইউটিউব ফেসবুক (ফোরজি) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা যাবে। তাহলে আজকের এই পোস্টটি পড়ুন এখানে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
আজকের প্রযুক্তিপ্রধান যুগে, স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনি বাটন ফোনের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে যারা কল, মেসেজ এবং হালকা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ফোন চান, তাদের জন্য Linnex Lx 4G Button Phone বা ৪জি সাপোর্ট সহ বাটন ফোনটি সেরা পছন্দ হতে পারে।
এই ফোনগুলো দেখতে সাধারণ বাটন ফোনের মতো হলেও এতে আছে ৪জি ইন্টারনেট সুবিধা, ইউটিউব, ফেসবুক এবং হালকা অনলাইন কাজ করার সক্ষমতা আছে। এবং দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়, চলুন এর দাম সহ বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জেনে নেই।
Linnex Lx 4g বাটন ফোনের দাম কত?
Linnex LX 4G+ Feature Phone – প্রায় ৳4,400 – ৳4,899 টাকা। এর দাম কখনো কখনো কম বেশি হতে পারে, কেনার আগে অবশ্যই দাম যাচাই-বাছাই করে নিবেন।

Linnex Lx 4g এর ফিচার গুলোঃ-
এই ফোনে আপনি কি কি ফিচার পাবেন, নিচে তার একটি লিস্ট দেওয়া হলো।
| ফিচারের নাম | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| অপারেটিং সিস্টেম | অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম (Android OS) |
| নেটওয়ার্ক | ৪জি ভিও-এলটিই (HD ভয়েস কলিং সুবিধা) |
| ডিসপ্লে | ৩.৫ ইঞ্চি টাচ স্ক্রিন (৪৮০×৩২০ রেজোলিউশন) |
| প্রসেসর | মিডিয়াটেক (MTK) কোয়াড-কোর প্রসেসর |
| র্যাম ও স্টোরেজ | ৩ জিবি র্যাম এবং ৩২ জিবি ইন্টারনাল মেমোরি |
| মেমোরি কার্ড | ৩২ জিবি থেকে ৬৪ জিবি পর্যন্ত মেমোরি কার্ড সাপোর্ট করে |
| স্মার্ট অ্যাপস | হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ফেসবুক, গুগল ম্যাপস এবং প্লে-স্টোর ব্যবহারের সুবিধা |
| কানেক্টিভিটি | ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস এবং হটস্পট সুবিধা |
| ক্যামেরা | পেছনে ৫ মেগাপিক্সেল (ফ্ল্যাশসহ) এবং সামনে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা |
| ব্যাটারি | ৩০০০ mAh (দীর্ঘস্থায়ী ব্যাকআপ) |
| চার্জিং পোর্ট | ইউএসবি টাইপ-সি (USB Type-C) চার্জিং পোর্ট |
| অন্যান্য সুবিধা | ওয়্যারলেস এফএম রেডিও, শক্তিশালী টর্চলাইট এবং ভিডিও প্লেয়ার |
| অ্যাপস ও গেম ডাউনলোড | গুগল প্লে-স্টোর সাপোর্ট করে / স্মার্টফোনের মতো সব অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে |
| সেন্সর | প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং ফেস আনলক (Face Lock) সুবিধা |
| সিম কার্ড | ডুয়াল সিম (হাইব্রিড ন্যানো সিম স্লট) |
Linnex Lx 4g Button phone এর সুবিধা ও অসুবিধা।
১. সুবিধা:-
- স্মার্ট অ্যাপ সাপোর্ট: সাধারণ বাটন ফোন হওয়া সত্ত্বেও এতে WhatsApp, YouTube, Facebook এবং Google Maps-এর মতো প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।
- ওয়াই-ফাই হটস্পট: এই ফোনগুলোকে পকেট রাউটার হিসেবে ব্যবহার করে অন্য স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট শেয়ার করা যায়, যা সাধারণ বাটন ফোনে সম্ভব নয়।
- দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি: স্মার্টফোনের তুলনায় স্ক্রিন ছোট হওয়ায় এর ব্যাটারি ব্যাকআপ অনেক বেশি থাকে। একবার চার্জ দিলে ২-৩ দিন অনায়াসেই চলে যায়।
- ৪জি নেটওয়ার্ক ও ভিডিও কল: ৪জি সাপোর্ট থাকায় ইন্টারনেটের গতি ভালো পাওয়া যায় এবং সামনের ক্যামেরা থাকাই হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল করা সম্ভব।
- সহজ ব্যবহার: যারা স্মার্টফোনের জটিলতা পছন্দ করেন না বা বয়স্ক মানুষ, তাদের জন্য এটি চালানো খুব সহজ।
- ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট: অনেক ফোনে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকে, যার ফলে মুখে বলেই কল করা বা মেসেজ পাঠানো যায়।

২:- অসুবিধা
- সীমিত অ্যাপ: এতে অ্যান্ড্রয়েডের মতো লাখ লাখ অ্যাপ বা গেম ডাউনলোড করা যায় না। অতিরিক্ত অ্যাপস ইনস্টল করলে মোবাইল হ্যাং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- টাইপিং সমস্যা: কিপ্যাড দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে বড় মেসেজ টাইপ করা বেশ বিরক্তিকর মনে হবে।
- ছোট ডিসপ্লে: ইউটিউব ভিডিও দেখা বা ম্যাপ ব্যবহার করার জন্য ৩.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে অনেক সময় যথেষ্ট মনে হয় না।
- ক্যামেরা কোয়ালিটি: এই ফোনগুলোর ক্যামেরা সাধারণত ২ থেকে ৫ মেগাপিক্সেলের হয়, যা দিয়ে খুব ভালো মানের ছবি বা ভিডিও আশা করা যায় না।
- প্রসেসিং স্পিড: স্মার্টফোনের তুলনায় র্যাম ও প্রসেসর কম হওয়ায় একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ চালালে ফোন কিছুটা স্লো হতে পারে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, লিনাক্স ৪জি বাটন ফোন বর্তমান সময়ের এক দারুণ মোবাইল।
যারা স্মার্টফোনের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকতে চান, অথচ দৈনন্দিন প্রয়োজনে WhatsApp, YouTube বা Google Maps-এর মতো অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে চান,
তাদের জন্য এই ফোনটি হতে পারে আদর্শ সমাধান। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং Wi-Fi Hotspot সুবিধা এই ফোনটি তে আছে, এবং সাধারণ বাটন ফোনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী।

মহিপুর কুয়াকাটা
ধন্যবাদ, কমেন্ট করার জন্য