আপনি ঘরে বসেই হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করে আপনার ও আপনার পরিবারের যে কারো মোবাইলের জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে পুরো পোস্টটি পড়ুন।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য আর কম্পিউটারের দোকানে দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন নেই! আপনার নিজের মোবাইল দিয়েই এখন জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন। সরকারি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সঠিক পদ্ধতিতে যাচাই করার নিয়ম, আজই জেনে নিন।
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন চেক করে কিভাবে? ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এখন আর ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন নেই।
আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন চেক করার সবচাইতে সহজ পদ্ধতি নিয়ে।
তবে এই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। কারণ, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ডিজিটাল জন্ম সনদের তথ্যগুলো অনলাইনের সাথে মিলিয়ে নিতে পারবেন।
মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন চেক করতে কি কি তথ্য লাগে?

মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন চেক করতে আপনার মূলত ৩টি প্রধান তথ্যের প্রয়োজন হবে:
- প্রথমে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন কাগজটি খুঁজে বের করুন। তারপর
- ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর: আপনার জন্ম সনদে থাকা ১৭ সংখ্যার নম্বরটি লাগবে। যেমন : 19933318609057554, এই নাম্বারটি সবার জন্ম নিবন্ধনই থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নাম্বার দেওয়া থাকে।
- সঠিক জন্ম তারিখ: আপনার সনদে থাকা জন্ম তারিখটি প্রয়োজন হবে। যেমন ছবিতে থাকা তারিখটি হলো: 17-03-1993। আপনার জন্মনিবন্ধন কাগজ থেকে সঠিক নাম্বারটি সংগ্রহ করুন।
তারপর কিভাবে এগুলো দিয়ে অনলাইন থেকে জন্ম নিবন্ধন, যাচাই করবেন বিস্তারিত নিচে দেখুন।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সহজ উপায়।

প্রথমে আপনার মোবাইলের যেকোনো ব্রাউজার (যেমন: Chrome) থেকে জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট everify.bdris.gov.bd এ প্রবেশ করুন। প্রবেশ করার পর উপরের স্ক্রিনশট এর মত দেখতে পারবেন। সরাসরি লিংক https://everify.bdris.gov.bd

ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর আপনি “Birth Registration Number” নামে একটি বক্স দেখতে পাবেন। আপনার জন্ম সনদে থাকা ১৭ ডিজিটের নম্বরটি এখানে নির্ভুলভাবে লিখুন। যেমন আমার সনদের ক্ষেত্রে নম্বরটি হলো: 19933318609057554। এখানে আপনার সনদের নাম্বারটা দিবেন।

এরপরের বক্সে আপনার জন্ম তারিখ দিতে হবে। মনে রাখবেন, তারিখটি বছর-মাস-দিন এইভাবে দিতে হবে (অর্থাৎ প্রথমে জন্ম সাল, তারপর মাস এবং শেষে দিন)। আমার সনদের জন্ম তারিখ অনুযায়ী এখানে আমাকে দিতে হবে: 1993-03-17 আপনিও ঠিক এইভাবেই আপনার জন্ম সালটা দিবেন।

সর্বশেষ নিরাপত্তার জন্য নিচে একটি সহজ অংক দেওয়া থাকবে। যেমন ছবিতে দেখা যাচ্ছে 5 + 50 = ?। এই অংকটির সঠিক উত্তর (৫৫) নিচের “The answer is” লিখতে হবে
আপনার ক্ষেত্রে এই অংকটি অন্য কোন সংখ্যায় থাকতে পারে যে সংখ্যায় থাকুক না কেন তার যোগফল The answer is” বক্সে লিখবেন। তারপর

সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর নিচে থাকা নীল রঙের “Search” বাটনে ক্লিক করুন। সব ঠিক থাকলে সাথে সাথেই স্ক্রিনে আপনার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য চলে আসবে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য খুঁজে না পেলে বা ভুল আসলে করণীয়।
অনেক সময় সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও “Record Not Found” দেখাতে পারে অথবা দেখা যেতে পারে যে আপনার জন্ম সনদে থাকা তথ্যের সাথে অনলাইন কপির তথ্যে অমিল রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনার করণীয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
- তথ্য পুনরায় যাচাই করুন: প্রথমেই নিশ্চিত হোন যে আপনি ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং
YYYY-MM-DDফরম্যাটে জন্ম তারিখটি সঠিকভাবে দিয়েছেন কি না। - পুরানো সনদ ডিজিটাল করা: আপনার জন্ম নিবন্ধন যদি অনেক পুরানো হয় এবং সেটি ১০ বা ১৬ ডিজিটের হয়, তবে তা সরাসরি অনলাইনে নাও দেখাতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে এটি স্থানীয় সরকার কার্যালয় থেকে ডিজিটাল করিয়ে নিতে হবে।
- আবেদনপত্রের ভুল সংশোধন: যদি অনলাইনে আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকে, তবে আপনাকে সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। bdris.gov.bd পোর্টালে গিয়ে আপনি সংশোধন আবেদন করতে পারবেন।
- প্রমাণপত্র সংগ্রহ: সংশোধন আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন—পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধনের কপি, স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র সাথে রাখতে হবে।
- সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ: অনলাইন আবেদনের পর সেই আবেদনের একটি কপি প্রিন্ট করে আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। তারা আপনার মূল আবেদন এবং প্রমাণপত্র যাচাই করে তথ্য আপডেট করে দেবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:-আপনি যদি এসব না করতে পারেন, বা ভেজাল মনে হয়, তাহলে আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে আপনার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে। এবং ইউনিয়ন পরিষদে থাকা কর্মকর্তারা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিবে।
পরামর্শ: জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে এবং কাজ শেষে অবশ্যই আপনার নতুন ডিজিটাল কপিটি অনলাইন থেকে পুনরায় চেক করে নেবেন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপি থাকা অপরিহার্য। আশা করি, আজকের এই পোস্টটি পড়ার পর মোবাইলে জন্ম নিবন্ধন চেক করে কিভাবে অনলাইনে সেই বিষয়ে আপনার মনে আর কোনো প্রশ্ন নেই। উপরের দেখানো ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই আপনার বা আপনার পরিবারের যে কারো জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন।
মনে রাখবেন, জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সঠিক না থাকলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট বা এনআইডি করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই দেরি না করে আজই আপনার ডিজিটাল তথ্যগুলো মিলিয়ে নিন। যদি অনলাইনে তথ্য খুঁজে না পান বা কোনো ভুল থাকে, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করে নিন।



